প্রযুক্তি ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ডিজিটাল নীতি ও আইনকে সময়োপযোগীভাবে সংস্কার করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় এবং একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
শনিবার (১৯ জুলাই) চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, এআইভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেন্দ্রীভূত উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
ফকির মাহবুব আনাম বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থার জন্য চারটি মৌলিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো—নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায্য প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ যেন কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন হয়—বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, “উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এআই অংশীদারত্ব” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সমষ্টিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনের সাংহাইয়ে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (WAIC) ২০২৬’ সম্মেলনটি ১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, শতাধিক দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করছেন।










