আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি দূর করে পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার পথ সুগম করতে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) স্থানান্তরের বিষয় বিবেচনা করছে তুরস্ক। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, একই দেশে এস-৪০০ ও এফ-৩৫ পরিচালিত হলে যুদ্ধবিমানটির সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়ার হাতে পৌঁছে যেতে পারে।
সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর এফ-৩৫ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন। এরপর এস-৪০০ ইস্যুর সমাধানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সম্ভাব্য এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। এস-৪০০ অন্য দেশে স্থানান্তর করতে হলে রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এ বিষয়ে এখনো আপত্তি রয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ কেনার জন্য একটি চুক্তি করেছিল। তবে গত পাঁচ বছর ধরে সেই চুক্তি কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে এস-৪০০ স্থানান্তরের সম্ভাব্য পরিকল্পনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে তুরস্ক, ভারত ও চীনের কাছে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
রাশিয়া ও ইরানের ভৌগোলিক নিকটবর্তী অবস্থান এবং ইসরাইলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশটি আবারও এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে আগ্রহী।
তবে শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
সূত্র: The Wall Street Journal (WSJ), Reuters (রয়টার্স)।












