অর্থনীতি ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় এক লাফে ৫৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা বেড়ে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
কেন বাড়ছে প্রকল্পের ব্যয়?
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো—
- মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন
- অতিরিক্ত প্রকৌশল কাজ
- জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি
- ইউটিলিটি স্থানান্তর
- কর ও ভ্যাটের ব্যয় বৃদ্ধি
- নকশা সংশোধন এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজন
ডলারের মূল্যবৃদ্ধির বড় প্রভাব
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম সংশোধনীতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮৬ টাকা। সর্বশেষ সংশোধনীতে তা বেড়ে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা ধরা হয়েছে।
শুধু টাকার অবমূল্যায়নের কারণেই প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে, যা মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় ৩৯ শতাংশ।
প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে নতুন অবকাঠামো
নকশা পরিবর্তনের কারণে আরও ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে।
সংশোধিত পরিকল্পনায়—
- বাইপাইলে একটি ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ,
- কাওলায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগকারী র্যাম্প,
- তুরাগ নদীর ওপর সেতুর নকশা পরিবর্তন,
- ভবিষ্যৎ রেল ট্রানজিট করিডোরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিয়ার ও স্প্যানের নকশা উন্নয়ন
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে
জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অতিরিক্ত কাজের কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দুই বছরের ডিফেক্ট লাইয়াবিলিটি পিরিয়ডও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কতদূর এগিয়েছে কাজ?
২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, যা প্রথম সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ের ৮৩ শতাংশ এবং নতুন প্রস্তাবিত ব্যয়ের ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।
প্রকল্পের রুট
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি—
- কাওলা
- আব্দুল্লাহপুর
- কামারপাড়া
- ধউর
- আশুলিয়া
- জিরাবো
- বাইপাইল
অতিক্রম করে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হবে।
এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS)












