Home আন্তর্জাতিক হরমুজে বোমা হামলা বন্ধের সুপারিশ সেন্টকম প্রধানের, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাবের দাবি

হরমুজে বোমা হামলা বন্ধের সুপারিশ সেন্টকম প্রধানের, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাবের দাবি

0
7
হরমুজে বোমা হামলা বন্ধের সুপারিশ সেন্টকম প্রধানের, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাবের দাবি

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের মতে, সামরিক অভিযান কার্যকারিতার শেষ সীমায়; কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রাখছে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে চলমান বোমা হামলা বন্ধের সুপারিশ করেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, টানা দুই সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পর কুপার মনে করেন, এই অভিযান তার কার্যকারিতার প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টাদের পাশাপাশি কুপারের এই সুপারিশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

‘শুধু বিমান হামলায় সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’

সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্পের সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টারা একমত হয়েছেন যে, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আকাশপথে পরিচালিত অভিযানের একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে টানা দুই সপ্তাহের হামলার পর ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় নতুন হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছিল।

অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতেই পেন্টাগন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এবং হোয়াইট হাউসের কাছে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেন অ্যাডমিরাল কুপার।

তিনি জানান, দুই সপ্তাহের অভিযানে হরমুজ অঞ্চলে জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ইতোমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কুপারের মতে, পরবর্তী বড় সামরিক অভিযান শুরু করলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে নির্ধারিত কিন্তু অক্ষত থাকা বাকি প্রায় ২০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব হতো। তবে পূর্ণমাত্রার নতুন অভিযান ছাড়া একই ধরনের বোমা হামলা অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি মত দেন।

ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও সতর্কতা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সেন্টকম ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্ররা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ও ওমান নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসির Meet the Press অনুষ্ঠানে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনারও সুযোগ দিচ্ছেন।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় পর্যায়েই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নৌপথ থেকে মাইন অপসারণে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা করছে। তবে এ সম্মেলনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here