Home আন্তর্জাতিক ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া, জানালেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া, জানালেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা

0
7
ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া: প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা

গোলান মালভূমির অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার, লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের গুঞ্জনও নাকচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে দামেস্ক। এ উদ্যোগে কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য এই নিরাপত্তা চুক্তি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পথও উন্মুক্ত করতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো চুক্তি অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার সার্বভৌম অধিকারের কোনো ক্ষতি করবে না। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সাল থেকে গোলান মালভূমি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংঘাত এড়াতে চায় সিরিয়া

আল-শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে চলছে সিরিয়া। তার মতে, একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা আঞ্চলিক সংকট নিরসনে আরও বিস্তৃত সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের একাধিক সামরিক অভিযান ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই

লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আল-শারা বলেন, দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। এ বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন।

তিনি জানান, লেবাননের সংকট নিরসন এবং দেশটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লেবানন সরকার ওই এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সব অস্ত্রের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

আল-শারা বলেন, যুদ্ধ ও শান্তি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত এবং অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ একমাত্র লেবানন রাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত। এ বিষয়ে সিরিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, লেবাননে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব সিরিয়ার ওপরও পড়বে। পাশাপাশি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য গুরুতর সংকটে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই যথেষ্ট নয়

সিরিয়ার অর্থনীতি নিয়ে আল-শারা বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না। সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে, তবেই দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যকর হবে।

তিনি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে সম্পাদিত অভ্যন্তরীণ চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করলেও জানান, সরকার চুক্তিটি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত এটি সফল হবে বলে তারা আশাবাদী।

নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে বিশেষ কমিটি

২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ জাতীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।

আল-শারা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এ কমিটি কাজ করবে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করা হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে প্রায় এক লাখ মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সিরিয়ার নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক জাতীয় কমিশনের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here