Home জাতীয় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি, এনসিপি-বিএনপি সংঘর্ষের পর উত্তেজনা চরমে

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি, এনসিপি-বিএনপি সংঘর্ষের পর উত্তেজনা চরমে

0
31
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি, এনসিপি-বিএনপি সংঘর্ষের পর উত্তেজনা চরমে

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি, এনসিপি-বিএনপি সংঘর্ষের পর উত্তেজনা চরমে

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সময় ও একই স্থানে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল শান্তি সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি, পিকেটিং, মাইকিং, স্লোগান এবং উচ্চ শব্দে প্রচারণাসহ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

সংঘর্ষে আহত সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের থানার মোড় এলাকায় এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এনসিপির অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দলের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মিডিয়া সেলের আরাফাত সানি, চালক আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ, ভিডিও এডিটর শাহরিয়ারসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হয়।

এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল দাবি করেন, সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার পথে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

ছাত্রদলের বক্তব্য

অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ হামলায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, শহরকে অস্থিতিশীল করার মতো বক্তব্য দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছেন, তবে এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, কোনো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। এর আগে আজমিরীগঞ্জে সারজিস আলমও বিএনপিকে লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখেন। এসব বক্তব্যের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পদযাত্রা দলটি সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার পথে কলাপাতা রেস্টুরেন্টের সামনে হামলার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে এনসিপির নেতারা পাশের একটি ব্যাংকে আশ্রয় নেন এবং পরে পুলিশ তাদের নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ

ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। হামলায় মিডিয়া টিমের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি হামলাকারী, তাদের সহযোগী এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে সংঘর্ষ-পরবর্তী বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। হামলা, দায়িত্বে অবহেলা এবং অন্যান্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here