অনলাইন নিউজ ডেস্ক| বিডি ভিউজ বাংলা
উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক এক চিঠিকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে রাজশাহীতে রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে গত ১৬ জুলাই জারি করা চিঠিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য আর্থিক, প্রশাসনিক ও কার্যগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে মতামত দিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্চেও হয়েছিল স্থানান্তরের আলোচনা
এটি প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একটি ডিও লেটারের পর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রাজশাহীবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
কী বলছে নেসকো?
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি তিনি পেয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে কোম্পানির মতামত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
তার ভাষায়, এটি মূলত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
রাজশাহীতে প্রতিবাদ
প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের আলোচনা সামনে আসতেই রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে।
বক্তারা বলেন, রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এখান থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর সরিয়ে নেওয়া হলে প্রশাসনিক গুরুত্ব, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তারা সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে বৃহত্তর আন্দোলন, এমনকি হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।
সরকারের আগের অবস্থান
এর আগে ১০ মার্চ রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছিলেন, নেসকোর সদর দপ্তর রাজশাহীতেই থাকবে।
তিনি বলেন, রাজশাহী শুধু বিভাগীয় শহর নয়, বরং দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রশাসনিক কেন্দ্র। তাই নেসকোর মতো প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর এখানেই থাকা উচিত।
স্থানান্তরের পক্ষে কী যুক্তি?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নেসকোর কার্যক্রম বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত। সদর দপ্তর রাজশাহীতে থাকায় রংপুর অঞ্চলের কিছু প্রশাসনিক কাজে অতিরিক্ত সময় লাগে। সেই বাস্তবতা যাচাই করতেই সম্ভাব্যতা নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন
স্থানান্তরের বিরোধীরা বলছেন, প্রশাসনিক সমন্বয়ই যদি মূল সমস্যা হয়, তাহলে আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েও সেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তরের আগে দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।











