আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
অর্থ, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগে রয়েছে সৌদি আরব। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যাচ্ছে রিয়াদ।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটিকে অনেকেই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্যাট্রিয়ট মজুত নিয়ে উদ্বেগ
চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর সৌদির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার আশঙ্কা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন দেশের শক্তির সমন্বয়
নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় তিন দেশের সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব অর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে, তুরস্ক উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সরবরাহ করতে পারে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সামরিক সহায়তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তী আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়ে তুরস্ককেও যুক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পুরোনো বিরোধ পেছনে ফেলে নতুন জোট
একসময় তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুড, লিবিয়া ও সিরিয়ার প্রক্সি সংঘাত এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধ ছিল।
তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে দুই দেশ এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকে এগিয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নতুন এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে ইরান, হুথি গোষ্ঠী এবং ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একটি কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে সৌদি আরব।
একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে সৌদি যুবরাজের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং উচ্চাভিলাষী ‘নিওম’ প্রকল্পের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও রিয়াদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে—তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি












