নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে তিনি এ জামিন পান।
এর আগে গত ২২ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের ভাগ্নির সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর রহমান তাকে ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরবর্তীতে গাজী নজরুলের সঙ্গে ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ওবায়দুর রহমানকে ভিডিও ধারণ ও সরবরাহের জন্য সন্দেহ করেন। এর জেরে গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুর রহমানকে একটি ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিদের উপস্থিতিতে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
ওবায়দুর রহমানের মা ও বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
জামায়াত থেকে বহিষ্কার
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের কথিত ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়।
এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জরুরি বৈঠক করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বিষয়টির আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক












