Home জাতীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধি চূড়ান্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধি চূড়ান্ত

0
4
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধি চূড়ান্ত

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের বিধান রেখে গত জুলাইয়ে আইন পাস হওয়ার পর আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের আচরণবিধির পরিবর্তে এবার পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পৃথক নতুন আচরণবিধি করা হচ্ছে।

যেসব প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে

নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার নিষিদ্ধ করা হলেও ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারসামগ্রীর আকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে—

  • ব্যানার: সর্বোচ্চ ১০ ফুট × ৪ ফুট
  • লিফলেট ও হ্যান্ডবিল: এ-৪ আকার
  • ফেস্টুন: সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি
  • বিলবোর্ড: সর্বোচ্চ ১৬ ফুট × ৯ ফুট
  • প্রচারসামগ্রী হতে হবে সাদাকালো
  • নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি করা যাবে না।

বিলবোর্ড ব্যবহারে সীমা

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

উপজেলা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নজরদারি

নতুন আচরণবিধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটিও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে।

মাইক ব্যবহারে সময়সীমা

নির্বাচনী প্রচারে মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এসব মাধ্যমে প্রচার চালানো যাবে। একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

এ ছাড়া প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর ছবি ও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

সরকারি পদধারীদের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

নতুন আচরণবিধিতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে মেয়র, চেয়ারম্যান, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

বাড়ছে শাস্তি

আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন বিধিমালা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিবর্তন ও সংযোজন করা হলেও মূল কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here