Home সর্বশেষ সংবাদ এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, আদালতে মামলা

এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, আদালতে মামলা

0
4
এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, আদালতে মামলা

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা: সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দিরাই আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও মোহরার মমতাজ বেগম।

অসুস্থতার সুযোগে দলিলে স্বাক্ষরের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ নাছির উদ্দিনকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি এতে রাজি হননি।

এ সময় আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে তার অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনাটি দেখে ফেলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর এক সমর্থক ওয়াকিব হাসানকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এমপির বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন।

‘গলায় দা ধরে বাড়ি লিখে নেওয়া হয়’

বাদী পারভিন আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর চরম অসুস্থ অবস্থায় থাকাকালে তার গলায় দা ধরে বসতবাড়ি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই ওই বাড়ি তৈরি করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পারভিন আক্তারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে তার স্বামী তাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগ অস্বীকার সৎ ভাইয়ের

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে তারা আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন।

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here