Home সারাদেশ এজলাসে গিয়ে বিচারকের প্রত্যাখ্যান, বিপাকে প্রত্যাহার আদেশ পাওয়া ওসি নোমান

এজলাসে গিয়ে বিচারকের প্রত্যাখ্যান, বিপাকে প্রত্যাহার আদেশ পাওয়া ওসি নোমান

0
12

নিজস্ব প্রতিবেদক | BD Views Bangla
প্রকাশের তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০২৬

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান। বুধবার (১২ আগস্ট) আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এজলাসে ওঠার পর হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করেন ওসি নোমান। এ সময় তিনি তিনবার স্যালুট দিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

বিষয়টি নজরে এলে বিচারক আদালতের স্টেনোগ্রাফারের কাছে ওই কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিচারক ওসি নোমানকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি এখানে কেন এসেছেন। আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে আপনাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের ‘অর্ডার অর্ডারই’।”

এরপর এজলাস থেকে বেরিয়ে যান ওসি নোমান।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানায়, বিচারক এজলাসে ওঠার আগে ওসি নোমান তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে আদালতের সংশ্লিষ্টরা অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে তাকে জানান। পরে বিচারক এজলাসে ওঠার পর তিনি সেখানে প্রবেশ করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত থেকে নিচে নামার সময় ওসি নোমানকে কিছুটা হতাশগ্রস্ত দেখা যায়। এ সময় তিনি অসুস্থতাবোধ করলে কয়েকজন তাকে ধরে নিচে নামতে সহযোগিতা করেন।

যে মামলায় ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

এর আগে গত ৯ আগস্ট দেওয়া আদালতের এক আদেশে দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার গৃহবধূ বিবি মারজাহান (২৪)-এর অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আদালতে অভিযোগ করেন মারজাহান। অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তাঁর জবানবন্দি এবং উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান।

পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, মারজাহানের চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তাঁর অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয় বলে আদালত মন্তব্য করেন।

আরও একটি মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২২)-কে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলাও গ্রহণ না করার বিষয় আদালতের নজরে আনেন।

আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এ অবস্থায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।

তদন্ত কমিটি গঠন

এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের পত্র তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here