বিডি ভিউজ বাংলা | সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হওয়া উচিত—কোনো দেশের সঙ্গে অকারণ বৈরিতা নয়, আবার কোনো দেশের কাছে আত্মসমর্পণও নয়; সর্বাগ্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম ছয় মাসের পররাষ্ট্রনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে—বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মমর্যাদা, ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিডি ভিউজ বাংলার সম্পাদকীয় দৃষ্টিতে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অসম ভারসাম্য নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।
ভারত বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাই ভারতের সঙ্গে কার্যকর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বন্ধুত্ব কখনো একতরফা হতে পারে না। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা এবং অভিন্ন স্বার্থ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু একটি সফরসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে একটি কূটনৈতিক বার্তাও প্রতিফলিত হয়েছে—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না।
বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে—এটাই হওয়া উচিত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কূটনৈতিক অবস্থান।
তবে আত্মমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতি মানে কারও সঙ্গে অকারণে বৈরিতা সৃষ্টি করা নয়। বরং শক্ত অবস্থান থেকেই সংলাপ, সহযোগিতা ও সমাধানের পথ তৈরি করা।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোও এখন কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। গঙ্গার পানিবণ্টন, তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য বৈষম্য, ভিসা জটিলতা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিচারাধীন বা দণ্ডিত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা বাংলাদেশের স্বার্থ নয়। আবার সম্পর্ক ভালো রাখার নামে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পর্ক।
বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশা করে, যেখানে দিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটন কিংবা অন্য কোনো রাজধানী নয়—ঢাকাই হবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি এই নীতিকে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাহলে এটি শুধু একটি সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য হবে না; বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য রাখা। আত্মমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতি শুধু বক্তব্যে নয়; বাস্তব সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে দরকষাকষি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতার মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে।
বিডি ভিউজ বাংলার সম্পাদকীয় অবস্থান স্পষ্ট—
কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বাংলাদেশের পক্ষে।
সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও কাছে নতজানু নয়।
বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে।
— সম্পাদকীয় বিভাগ
বিডি ভিউজ বাংলা












