বিডি ভিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও রয়েছে বলে ইরানি সরকারের দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে আলোচনা শুরুরও কোনো পরিকল্পনা নেই।
এর মধ্যেই বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খোলা রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ব্যাপারে ইরান কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মিত্রদেরও সতর্ক করছেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প।
ওমানকে মধ্যপ্রাচ্য নীতির পথে বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হলে ন্যাটো সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও সিএনবিসি












