নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু হয়েছে। এখন থেকে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে একই পদে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা।
এ লক্ষ্যে সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই নীতিমালা বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা।
দুই বছর চাকরির পর আবেদন
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি সম্পন্ন হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করার যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদন করতে হলেও সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে।
একজন শিক্ষক পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
যেসব এলাকায় বদলির আবেদন করা যাবে
বদলির ক্ষেত্রে প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা। নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো জেলা অথবা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
একাধিক আবেদন হলে অগ্রাধিকার যেভাবে
একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা হলে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- নারী প্রার্থী
- কর্মস্থলের দূরত্ব
- স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল
- চাকরির জ্যেষ্ঠতা
দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
বছরে সর্বোচ্চ দুই শিক্ষক বদলি
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না।
একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
এমপিও সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে
বদলি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে বদলিকে কোনো শিক্ষক অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারবেন না। বদলি হওয়া শিক্ষক কোনো টিএ-ডিএ ভাতা পাবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন। এরপর পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
যারা বদলির জন্য যোগ্য নন
যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তের আদেশের মধ্যে রয়েছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান, তারা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, “যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”












