নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি জ্বালানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জাহাজটিতে থাকা ফিলিপাইনের দুই নাবিক নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের জাতীয় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান বাহরি জানিয়েছে, সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ‘সিদর’ নামের একটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নিরাপত্তাজনিত ঘটনায়’ জড়িয়ে পড়ে।
বাহরির এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সিদর ওমানের মুসানদাম উপদ্বীপের উত্তরে অবস্থান করছিল। এ সময় জাহাজটিতে কয়েকটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হানে।
একই সময়ে মুসানদামের পূর্বাঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন আরেকটি জ্বালানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সৌদি আরবের এই অভিযোগের বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তেহরান আগে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। ইরানের দাবি, ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালিতে ‘অনুমোদনহীন’ পথে চলাচল করছিল।
সৌদি ট্যাংকারে দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে জোরদার হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হামলায় দেশটিতে ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে মার্কিন হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সৌদি আরবের জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলার অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলারও নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে সৌদি আরব উত্তেজনা কমিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।















