Home সারাদেশ পলাশবাড়ীর রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার

পলাশবাড়ীর রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার

মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার; মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

0
24
পলাশবাড়ীর রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার
রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস

ন্যাশনাল ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

সারাদেশে আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮১ ফুট রামমূর্তি নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরুণী দাস (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া হরিদাস চন্দ্র উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি মন্দিরটির আধুনিকায়ন এবং সেখানে ৮১ ফুট রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান সোমবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কীভাবে আলোচনায় আসেন হরিদাস?

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ভারত অবস্থানের পর ২০২৪ সালে হরিদাস নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর গ্রামের পুরোনো কালি মন্দিরের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে মন্দিরটির নাম পরিবর্তন করে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির রাখা হয়।

পরবর্তীতে মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে নির্মাণকাজের অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরে রামমূর্তি অপসারণ, অর্থের উৎস তদন্ত এবং হরিদাসের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সে সময় র‍্যাবের অভিযোগ ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন।

র‍্যাবের তৎকালীন বক্তব্য অনুযায়ী, হরিদাস ভারতে অবস্থানকালে পড়াশোনা করেন এবং পরে বাংলাদেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৯ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন বলেও র‍্যাব দাবি করেছিল।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here