আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (১৯ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় জড়িত আইআরজিসির বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগারসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি “শেষ” ঘোষণা করার পর টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনকে “অবিস্মরণীয় শিক্ষা” দেওয়া হবে।
কুয়েত ও বাহরাইনে উত্তেজনা
কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর দেশটি সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানায়।
বাহরাইনও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
পাল্টাপাল্টি দাবি
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে চারটি জাহাজ থামিয়েছে এবং জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানসহ কয়েকটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি কেন্দ্র, অস্ত্রভাণ্ডার, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
হতাহতের দাবি
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংঘাত পুনরায় শুরুর পর থেকে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান “পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযান” শুরু করবে।












