আন্তর্জাতিক ডেস্ক | BD VIEWS BANGLA
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬
ইরানে টানা দশম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও কোনারাকসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান, ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।
সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর জন্য ইরানকে “বহুগুণ মূল্য” দিতে হবে।
ট্রাম্প জানান, নিহত সেনাদের স্মরণে আগের রাতে ইরানের সামরিক ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে “অত্যন্ত কঠোর” হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ” পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর জবাবে ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ একাধিক এলাকায় হামলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থানরত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার পর তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে বাহরাইন দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো হলেও বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, ট্যাংকার দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দক্ষিণ রুট ব্যবহার করছিল। তবে মার্কিন সেন্টকম এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM), সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
রেফারেন্স: প্রকাশিত প্রতিবেদন, ২১ জুলাই ২০২৬।












