স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠের বাইরেও নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সেমিফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারকে ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করতে দেখা যায়। বাংলায় যার অর্থ—‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার।’ এ ঘটনাকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফা বিষয়টি তদন্ত করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুটবলের আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রতিযোগিতার মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক বার্তা প্রদর্শনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান অনুসরণ করে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের বার্তা প্রদর্শন করলে সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা কিংবা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কী ঘটেছিল?
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওটামেন্ডির হাতে ওই ব্যানার দেখা যায়। পরে অধিনায়ক লিওনেল মেসি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেজসহ দলের অন্য ফুটবলাররাও ব্যানারটির সঙ্গে উদযাপনে অংশ নেন। পরে সেটি গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকেও তুলে দেওয়া হয়।
কেন বিতর্ক?
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত, তার মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ এবং ব্রিটেনের ২৫৫ সেনা নিহত হন। যুদ্ধের পর দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের হাতেই থাকে।
এর পর থেকেই রাজনৈতিক এই বিরোধের প্রভাব দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও দেখা যায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচ থেকেও এই ইস্যু আলোচনায় এসেছে।
কী হতে পারে ফিফার সিদ্ধান্ত?
ফিফা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সেমিফাইনাল ম্যাচটি গ্যালারি থেকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দেখেছেন বলে জানা গেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন বা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা, সতর্কবার্তা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলেই মনে করছেন তারা।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।












