স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে নওদাপাড়া ও শিরোইল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
রাজশাহীর ন্যাশনাল ট্রাভেলসের সিটি বাইপাস কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, বাস চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে।
যেভাবে শুরু হয় বিরোধ
সোমবার বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
কর্মবিরতি ও বাস বন্ধ
বৈঠক শেষে শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ফিরে তাৎক্ষণিকভাবে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। যদিও কিছু সময় পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়, তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও শ্রমিকদের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করলে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এ কারণে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
অন্যদিকে, রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল দাবি করেন, শুরুতে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পরে কিছু রুটে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে সব রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।











