স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা
ঢাকার বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে প্রতিদিন ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেমন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, তেমনি জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একবার চালু হলে এ প্রকল্প থেকে পরবর্তী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বিনিয়োগ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি (CMEC) গ্রুপ আমিনবাজারে একটি আধুনিক বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ নগর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এতে একদিকে বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
মঙ্গলবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।
নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী বর্জ্য অপসারণ, রাস্তা-ঘাটের পরিচ্ছন্নতা, ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওই এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশ থেকে বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশপথ আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক হয়ে উঠবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হিসেবেও এ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।












