Home জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের...

সংসদে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের আহ্বান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা; সরকার বলছে—আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

0
5

স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা

জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের দলগত বিচার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে বিরোধী দল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করারও দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিধি-৬৮ অনুযায়ী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জরুরি গণ-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় এসব দাবি উঠে আসে। আলোচনার নোটিশ দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

সরকারের অবস্থান

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সরকার সংসদে পাস করেছে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি সর্বপ্রথম তারাই তুলেছেন।

তিনি বলেন, “সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম না হয়।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত ও ভারত প্রসঙ্গ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র পরিবর্তন করা যায় না, তবে বাংলাদেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে থাকবে।

তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতির ভিত্তিতেই সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান।

বিরোধী দলের বক্তব্য

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের নির্যাতনের একটি পরিণতি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “বিচারের ব্যাপারে কোনো গড়িমসি জাতি মেনে নেবে না। বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং তা হতে হবে ন্যায়বিচার।”

মিডিয়ার একটি অংশের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রাখতে কিছু গণমাধ্যম ভূমিকা রেখেছিল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬টি তদন্তের মধ্যে ১২টির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন এবং তিনটি মামলায় রায় হয়েছে।

তিনি বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা পর্যায়েও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।”

এনসিপির দাবি

এনসিপির চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ প্রসিকিউটর নিয়োগ ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

আখতার হোসেনের বক্তব্য

আলোচনার সূচনাকারী এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে হবে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার কার্যকর করার জন্য সরকারকে অবিলম্বে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

নূরুল হকের বক্তব্য

গণ-অধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নূরুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার গণবিরোধী কর্মকাণ্ড বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথে না হাঁটে, সে জন্য দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, রোকেয়া বেগমসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here